جاري تحميل ... مدونة نور الدين رياضي للعمل السياسي والنقابي والحقوقي

أخبار عاجلة

إعلان في أعلي التدوينة

المناضلة البطلة كالبانا دوت (Kalpana Datta)

 বীর কন্যা কল্পনা দত্তের জন্ম হয় ১৯১৩ সালের ২৭ জুলাই চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের শ্রীপুরে। গ্রামের বাড়ি বোয়ালখালী হলেও তার শৈশব ও ছাত্রজীবন সূচিত হয় চট্টগ্রাম শহরে। বাবা বাংলাদেশ রেলওয়ে সাব রেজিস্টার বিনোদবিহারী দত্ত, মা সুভনা দত্ত ছিলেন গৃহিণী। তার দাদু ছিলেন শহরের নামকরা ডাক্তার রায় বাহাদুর দুর্গাদাস দত্ত’– পূর্নেন্দু দস্তিদার।

ডা. খাস্তগীর স্কুলের শিক্ষিকা উষাদি ছাত্রীদের সাথে গল্প করতেন। তাদেরকে দেশ-বিদেশের গল্প শুনাতেন। একদিন তিনিই তার ছাত্রীদের সাথে সূর্য সেন ও অম্বিকা চক্রবর্তীর মামলার কথা নিয়ে আলোচনা করেন। এই আসরে প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্ত ছিলেন। উষাদি হেসে বললেন দোষ করেছে, মানে ডাকাতি করেছে। অপরাধ করেছে এই কথাতো? কিন্তু দোষ কার? কে শাস্তি দিবে? সেই বিচার কে করবে? এই যে আমাদের স্বদেশ, এখানে আমরা এভাবে আছি কেন? আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ না খেয়ে থাকে, শিক্ষা পায় না, রোগে ঔষধ পায় না। তারা অবাক হয়ে ঊষাদির কথা শুনছিলেন। প্রীতিলতা (রাণী) ও কল্পনা দত্ত এই উষাদির সংস্পর্শে এসে ক্ষুদিরাম, ঝাঁসির রাণী লক্ষ্মীবাই, কানাইলালের জীবনী, পথের দাবি প্রভৃতি স্বদেশি বই পড়তে শুরু করেন। উষাদি ছিলেন স্বদেশিদের গোপন বিপ্লবী সহযোগী। তিনি মূলত দু’জনের চেতনায় দেশপ্রেম ও বিপ্লবী রাজনীতির বীজমন্ত্র বুনে দেন।
১৯২৯ সালে কল্পনা দত্ত চট্টগ্রমের ডা. খাস্তগীর স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষা দেন। কিছুদিন পর পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়। কল্পনা দত্ত গণিত ও সংস্কৃতে লেটারসহ চতুর্থ স্থান পেয়ে মেট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ভাল ফলাফল করার জন্য সরকার তাকে মাসে ১৫ টাকা বৃত্তি প্রদান করে। পূর্ব থেকেই তার পরিবার মেয়েকে কলকাতায় পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কল্পনাও রাজী ছিলেন। ওই বছরই তিনি আই. এস. সি’তে কলকাতার বেথুন কলেজে ভর্তি হন। প্রীতিলতা তখন একই কলেজে ইংরেজি সাহিত্যে বি. এ পড়ছেন। থাকেন ছাত্রীনিবাসে। এখানে মাস্টারদার নির্দেশে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। গড়ে তুলেন এক বিপ্লবী চক্র। এই বিপ্লবীচক্রে অনেক মেয়ে সদস্য যোগ দেন। বিপ্লবীচক্রে কল্পনাও যুক্ত হলেন। এই চক্রের মূল কাজই ছিল বিপ্লবীকর্মী তৈরির পাশাপাশি অর্থ সংগ্রহ করা। অর্থ সংগ্রহ করে প্রীতিলতা চট্টগ্রামে পাঠাতেন। একই সময় কল্পনা দত্ত কল্যাণী দাসের ‘ছাত্রীসংঘে’ যুক্ত ছিলেন। এ সময় বেথুন কলেজে হরতাল পালন এবং অন্যান্য আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন।
তিনি প্রীতিলতার সাথে যুক্ত থেকে বিপ্লবী ধারার কাজ করতে করতে নিজেই বিপ্লবী কর্মী হয়ে যান। দেখা করতে চান সর্বাধিনায়ক সূর্য সেনের সাথে। অতঃপর দেখা করে অনুমতি চাইবেন মেয়েদের বিপ্লবে অংশগ্রহণের।
একই সময় তিনি বিপ্লবী নেতা পূর্ণেন্দু দস্তিদারের সংস্পর্শে আসেন। পূর্ণেন্দু দস্তিদার ও প্রীতিলতার প্রভাবেই কল্পনা দত্ত বিপ্লবী দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ওই বছর মে মাসে চট্টগ্রামে বিপ্লবীদের উদ্যোগে চট্টগ্রাম জেলা রাজনৈতিক সম্মেলন, যুব সম্মেলন, ছাত্র সম্মেলন ও নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের পর প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্ত কলকাতায় চলে যান। ওই সময় কলকাতায় বিপ্লবীদের এক গোপন কারখানায় তৈরি হত বোমার খোল। মাস্টারদার নির্দেশ অনুযায়ী সে বোমার খোল সংগ্রহ করেন প্রীতিলতা। ওই বছরের শেষের দিকে পুজার ছুটিতে প্রীতিলতা কল্পনা দত্ত, সরোজিনি পাল, নলিনী পাল, কুমুদিনী রক্ষিতকে নিয়ে চট্টগ্রাম আসেন। মাস্টারদার নির্দেশে বোমার খোলগুলো পৌঁছে দেন বিপ্লবীদের হাতে।
১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীরা সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখল করেন। ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদার ১৮ এপ্রিল যুব বিদ্রোহ বা চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠণের ঘটনাকে ‘ভারতের বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সবচেয়ে সাহসিকতাপূর্ণ কাজ’ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। যা ছিল দেড়শত বছরের ইতিহাসের মধ্যে ইংরেজদের জন্য খুবই অপমানজনক ঘটনা। ১৮ থেকে ২১ এপ্রিল এই চারদিন চট্টগ্রামে ইংরেজ শাসন কার্যত অচল ছিল। পরাধীন জাতির ইতিহাসে বিপ্লবীদের এ বিজয় ছিল গৌরবগাঁথা। ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার দখল এবং ২২ এপ্রিল জালালাবাদ পাহাড়ের যুদ্ধের ঘটনায় তিনি এতটাই অনুপ্রাণিত হন যে ছুটিতে চট্টগ্রাম এসে আর কলকাতায় ফেরেন নি। তখনও মাস্টারদার সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ বা কথা হয়নি।
জালালাবাদ পাহাড়ের যুদ্ধের পর ব্রিটিশ অস্ত্রাগার লুণ্ঠণের দায়ে অনন্ত সিংহ, গণেশ ঘোষ ও লোকনাথ বলসহ আরও অনেক নেতাকে গ্রেফতার করে। মাস্টারদা সূর্য সেন চলে যান আত্মগোপনে। মে মাসের প্রথম দিকে প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্ত কলকাতা থেকে চট্টগ্রামে বিপ্লবে অংশ নিতে চলে আসেন। অনেক কষ্টে তারা মাস্টারদার সাথে দেখা করতে সক্ষম হন। তারা মাস্টারদার কাছে সশস্ত্র বিপ্লবে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হওয়ার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন। মাস্টারদা তাদেরকে বিপ্লবী দলের শপথ বাক্য পাঠ করান। এসময় প্রীতিলতা চট্টগ্রাম নন্দনকানন বালিকা মধ্য ইংরেজি স্কুলে (বর্তমানে অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়) শিক্ষক হিসেবে চাকুরি নেন। আর কল্পনা দত্ত চট্টগ্রাম কলেজে বিএসসিতে ভর্তি হন। পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে গোপনে চলতে থাকে বিপ্লবী দলের কার্যক্রম।
ধলঘাটের সংঘর্ষে ক্যাপ্টেন ক্যামেরুন হত্যাকাণ্ডের পর সারা চট্টগ্রাম নিস্তব্ধ হয়ে যায়। মিলিটারি ও পুলিশ নির্যাতন শুরু হয় গ্রামে-গঞ্জে শহরে। পাহাড়তলী স্টেশনের পাশে ভেলুয়ার দীঘির কোণায় কিছু গুণ্ডা প্রকৃতির ছেলের সহায়তায় পুলিশের হাতে পড়ে বিপ্লবী কল্পনা দত্তের রাজনৈতিক কারাজীবন শুরু হয়। কারামুক্ত হয়ে পরের বছর (১৯৩১) মে মাসে কলকাতা থেকে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য কৌশলে নিয়ে আসার দায়িত্ব দেওয়া হয় কল্পনা দত্তকে। কল্পনা দত্তের পরিকল্পনা ছিল ডিনামাইট ফিউজ দিয়ে চট্টগ্রাম আদালত ভবন ও কারাগার উড়িয়ে দিয়ে বিচারাধীন বিপ্লবীদের মুক্ত করা’– পূর্ণেন্দু দস্তিদার।
১৯৩১ সালের এপ্রিল মাসে এক বিশেষ আদালতে (ট্রাইব্যুনালে) আরম্ভ হয় রাজদ্রোহ মামলায় অভিযুক্ত ৩২ জন বন্দীর বিচার (চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখল)। মাস্টারদা বন্দীদের মুক্ত করার জন্য এক দুঃসাহসিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তিনি মাইন ব্যবহার করে জেলের প্রাচীর উড়িয়ে দিয়ে বন্দীদের মুক্ত করা এবং একই সাথে আদালত ভবন ধ্বংস করার উদ্যোগ নেন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন কল্পনা দত্ত। হামলার দিন ধার্য করা হয় ৩ জুন, ১৯৩১ সাল। সব প্রস্তুতিও গোপনে সম্পন্ন হয়ে যায়। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে সর্বশেষ মাইনটি বসানোর সময় পুলিশের নজরে পড়ে যাওয়ায় গোটা পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়।
১৯৩২ সালে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের জন্য দুইবার ব্যর্থ বিপ্লবী শৈলশ্বর চক্রবর্তীর আত্মহত্যার পর মাস্টারদা বিপ্লবী প্রীতিলতাকে ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণের ভার অর্পণ করেন। এই কারণে সূর্য সেন কাট্টলীর গোপন ক্যাম্পে আসেন। প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্ত দেখা করতে দক্ষিণ কাট্টলী গ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। প্রীতিলতা নিরাপদে গোপন কেন্দ্রে পৌঁছে গেলেও পুরুষবেশি কল্পনা দত্ত ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ সালে ধরা পড়েন। মাস্টার দা সূর্য সেন সে খবর পেয়ে অনুমতি দেন প্রীতিলতাকে ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণ করতে ২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৩২। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবার আত্মগোপন করেন কল্পনা দত্ত। ১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সমুদ্রতীরবর্তী গৈরালা গ্রামে ইংরেজ ফৌজের সঙ্গে সংঘর্ষে মাস্টারদা ও তারকেশ্বর দস্তিদারের সঙ্গী ছিলেন কল্পনা। পরে মাস্টারদা ও ব্রজেন সেন পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও কল্পনা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। কিন্তু তিন মাস পর ১৯ মে গৈরালা গ্রামে এক সশস্ত্র সংঘর্ষের পর কল্পনা এবং তার সতীর্থ কয়েকজন বিপ্লবী ধরা পড়েন।
প্রায় ৬ বছর কারাভোগের পর এই বিপ্লবী ১৯৩৯ সালে মুক্তি পান। ইতোমধ্যে মামলা চালাতে গিয়ে তার বাবা সহায় সম্বলহীন হয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের উত্তরে যে বড় দোতলা বাড়ি (রায় বাহাদুর ডা. দুর্গাদাস দত্তের বাড়ি) ছিল তাও হারাতে হয়েছে। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে চট্টগ্রাম গিয়ে দেখেন প্রাক্তন বিপ্লবীরা কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। কমিউনিস্ট পার্টি যে পথে দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করছে, সেই পথই ঠিক মনে হওয়ায় কল্পনা দত্তও কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। কমিউনিস্ট পার্টির কর্মী হিসেবে বাংলার দুর্ভিক্ষের সময় চট্টগ্রামে থেকে তিনি কাজ করেছেন। সেই সময় তার বহু রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছে পিপলস ওয়ার পত্রিকায়। ১৯৪০ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন। ওই বছর মুম্বাইতে এক সম্মেলনে কল্পনা দত্ত চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করেন। সেখানেই পি. সি যোশীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ১৯৪৪ সালে যোশীর সঙ্গে কল্পনার বিয়ে হয়। পি. সি যোশী তদানীন্তন ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক ছিলেন। এরপর তিনি চট্টগ্রামে ফিরে যান এবং দলের মহিলা ও কৃষক সংগঠনকে গড়ে তোলেন। ১৯৪৬ সালে আইনসভার নির্বাচনের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে প্রার্থী ছিলেন কল্পনা দত্ত। আর কংগ্রেস থেকে দাঁড়িয়েছিলেন দেশপ্রিয় যতীন্দ্র মোহন সেনের স্ত্রী নেলী সেনগুপ্তা।
দেশ ভাগ হওয়ার পরও অনেকদিন তিনি চট্টগ্রামেই থেকে যান। ১৯৫০ সালে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটে চাকুরি নেন এবং পরবর্তী সময়ে দিল্লিতে বসবাস শুরু করেন। রুশ ভাষায় শিক্ষকতা করেন এবং নতুন দিল্লির রুশ ভাষা কেন্দ্রের চেয়ারপার্সন নিযুক্ত হয়েছিলেন। ভারতের নারী আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। কল্পনা দত্ত নারী সমিতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতের মৈত্রী সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার যথেষ্ট অবদান ছিল। তিনি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ-এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কল্পনা দত্ত নানাভাবে সহযোগিতা করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর আমন্ত্রণে অন্যান্য বিপ্লবী কমরেডদের সাথে কল্পনা দত্তও চট্টগ্রাম আসেন। সেখানে, মিউনিসিপ্যাল স্কুল প্রাঙ্গণে বিপ্লবী দলকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। তিনি ১৯৯৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মারা যান।
তথ্যসূত্র:
১. স্বাধীনতা সংগ্রামে চট্টগ্রাম, পূর্ণেন্দু দস্তিদার, প্রকাশকাল ১৩৭৪ বাংলা, চট্টগ্রাম বই ঘর।
২. স্বাধীনতা সংগ্রামে সশস্ত্র বিপ্লবীদের ভূমিকা, সুধাংশু দাশগুপ্ত, প্রকাশকাল ১৯৯০, কলকাতা।
৩. গণমানুষের মুক্তির আন্দোলনে, মাহাফুজা খানম ও তপন কুমার দে, প্রকাশক: ডা. মাহফুজ শফিক, প্রকাশকাল ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
৪. বাংলার মুক্তি সন্ধানী, সব্যসাচী চট্টপাধ্যায়/রাখী চট্টপাধ্যায়, প্রকাশকাল ২০০৫, কলকাতা।
৫. শত বিপ্লবীর কথা, সম্পাদনা– শেখ রফিক।— مع ‏‎বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাগেরহাট জেলা কমিটি‎‏.

ملخص سيرة المناضلة البطلة كالبانا دوت (1913–1995)

كالبانا دوت (Kalpana Datta) هي إحدى أبرز المناضلات الثوريات في حركة التحرر الهندية ضد الاستعمار البريطاني، وارتبط اسمها بثورة شيتاغونغ التي قادها المناضل سوريا سين (ماستردا).

  • 1913: ولدت في 27 يوليو بمدينة شيتاغونغ (حاليا في بنغلاديش)، ونشأت في أسرة متعلمة ووطنية.
  • مرحلة الدراسة: تأثرت بمعلمتها الوطنية "أوشادي"، وبدأت بقراءة كتب الثورة والاستقلال، مما رسخ لديها الفكر الوطني منذ سن مبكرة.
  • 1929: تفوقت في امتحان الثانوية وانتقلت إلى كلية بيثون في كلكتا، حيث انضمت إلى الخلايا الثورية النسائية بقيادة المناضلة بريتيلاتا واديدار، وشاركت في جمع الأموال ونقل المعدات لصالح الثوار.
  • 1930: بعد نجاح عملية الاستيلاء على مستودع أسلحة شيتاغونغ بقيادة سوريا سين، عادت إلى شيتاغونغ وانضمت رسمياً إلى التنظيم الثوري، وأدت قسم الانضمام إلى الكفاح المسلح.
  • 1931: شاركت في خطة جريئة لتفجير السجن والمحكمة البريطانية باستخدام المتفجرات لتحرير الثوار المعتقلين، لكن الخطة أُحبطت في اللحظات الأخيرة بعد اكتشافها من قبل الشرطة.
  • 1932: ساهمت في التحضير للهجوم على النادي الأوروبي في باهارتالي، لكنها اعتُقلت قبل تنفيذ العملية أثناء تنقلها متنكرة في زي رجل. وبعد اعتقالها نفذت رفيقتها بريتيلاتا واديدار الهجوم واستشهدت خلاله.
  • 1933: شاركت مع سوريا سين في معارك ضد القوات البريطانية، وتمكنت من الفرار في البداية، لكنها اعتُقلت لاحقاً بعد اشتباك مسلح.
  • 1933–1939: حُكم عليها بالسجن، وأمضت نحو ست سنوات خلف القضبان.
  • بعد الإفراج عنها عام 1939: انضمت إلى الحزب الشيوعي الهندي، وشاركت في أعمال الإغاثة خلال مجاعة البنغال، وكتبت تقارير سياسية واجتماعية.
  • 1940: حصلت على شهادة البكالوريوس من جامعة كلكتا.
  • 1944: تزوجت من بي. سي. جوشي، الأمين العام للحزب الشيوعي الهندي، وأسهمت في بناء التنظيمات النسائية والفلاحية.
  • 1946: ترشحت لانتخابات المجلس التشريعي عن الحزب الشيوعي.
  • بعد استقلال الهند وتقسيمها: عملت في مجالات التعليم والحركة النسائية، ودرّست اللغة الروسية، وأسهمت في تعزيز العلاقات الهندية السوفييتية.
  • 1971: دعمت نضال شعب بنغلاديش خلال حرب التحرير.
  • 1972: عادت إلى شيتاغونغ بدعوة من الشيخ مجيب الرحمن، حيث كُرّمت مع رفاقها الثوريين.
  • 1995: توفيت في 8 فبراير، بعد حياة كرستها للنضال الوطني والاجتماعي.

أبرز إنجازاتها

  • من أوائل النساء اللواتي شاركن في الكفاح المسلح ضد الاستعمار البريطاني.
  • عضوة بارزة في مجموعة سوريا سين التي قادت ثورة شيتاغونغ.
  • شاركت في تهريب الأسلحة والمتفجرات والتخطيط لتحرير الأسرى السياسيين.
  • تحولت بعد السجن إلى قيادية في الحزب الشيوعي الهندي ومدافعة عن حقوق النساء والفلاحين.
  • تُعد اليوم إحدى أشهر رموز الحركة الثورية في الهند وبنغلاديش، إلى جانب رفيقتها الشهيدة بريتيلاتا واديدار.


وُلدت المناضلة البطلة كالبانا دوت (Kalpana Datta) في 27 يوليو/تموز 1913 بقرية شريبور التابعة لاتحاد شريبور-خاراندويب، في منطقة بوالخالي بمدينة شيتاغونغ (تشيتاغونغ). ورغم أن موطن أسرتها الأصلي كان بوالخالي، فإن طفولتها وحياتها الدراسية بدأتا في مدينة شيتاغونغ. كان والدها بينود بيهاري دوت يشغل منصب مساعد مسجل في سكك حديد بنغلاديش (الهند البريطانية آنذاك)، بينما كانت والدتها سوبهونا دوت ربة منزل. أما جدها راي بهادور الدكتور دورغاداس دوت فكان طبيباً مشهوراً في المدينة.

في مدرسة الدكتور خاستاغير، كانت المعلمة أوشادي تتحدث مع الطالبات عن أخبار البلاد والعالم. وفي أحد الأيام ناقشت معهن قضية سوريا سين (سورجيا سين) وأمبيكا تشاكرابورتي، المتهمين من قبل السلطات البريطانية. كانت بريتيلاتا واديدار وكالبانا دوت من بين الحاضرات. قالت أوشادي مبتسمة إن السلطات تصفهم باللصوص، لكن من هو المذنب الحقيقي؟ ومن يملك حق إصدار الأحكام؟ ولماذا يعيش شعبنا في هذا الوطن تحت القهر، فيما يعاني معظم الناس الجوع والحرمان من التعليم والدواء؟

أثرت هذه الكلمات بعمق في الطالبتين. ومنذ ذلك الحين بدأت بريتيلاتا وكالبانا في قراءة كتب وطنية وسير ثوار مثل خوديرام بوس، وراني لاكشمي باي، وكاناي لال، ورواية «مطالبة الطريق» (Pather Dabi) وغيرها. وكانت أوشادي متعاونة سرية مع الثوار الوطنيين، وقد غرست في نفسيهما بذور الوطنية والفكر الثوري.

عام 1929 اجتازت كالبانا امتحان الثانوية من مدرسة الدكتور خاستاغير، وحلت في المركز الرابع مع تقدير ممتاز في الرياضيات والسنسكريتية، فنالت منحة حكومية قدرها 15 روبية شهرياً. وكانت أسرتها قد قررت مسبقاً إرسالها إلى كلكتا لمواصلة الدراسة، وهو ما وافقت عليه.

التحقت في العام نفسه بكلية بيثون (Bethune College) لدراسة العلوم، بينما كانت بريتيلاتا تدرس الأدب الإنجليزي في الكلية نفسها وتقيم في السكن الجامعي، حيث كانت، بتوجيه من القائد الثوري سوريا سين (ماستردا)، تنظم خلية ثورية نسائية انضمت إليها العديد من الطالبات، من بينهن كالبانا دوت. وكان الهدف من هذه الخلية إعداد الكوادر الثورية وجمع الأموال لدعم الحركة الثورية في شيتاغونغ. كما انضمت كالبانا في الوقت نفسه إلى اتحاد الطالبات الذي أسسته كالياني داس، وشاركت في الإضرابات والاحتجاجات داخل الكلية.

ومع مرور الوقت أصبحت كالبانا نفسها مناضلة ثورية، ورغبت في لقاء القائد سوريا سين للحصول على موافقته لمشاركة النساء في الكفاح المسلح.

وفي الفترة نفسها تعرّفت إلى المناضل بورنيندو دستيدار، وكان له، إلى جانب بريتيلاتا، تأثير كبير في اتخاذها قرار الانضمام إلى التنظيم الثوري.

وفي مايو/أيار من ذلك العام انعقدت في شيتاغونغ مؤتمرات سياسية وشبابية وطلابية ونسائية نظمتها الحركة الثورية.

بعد انتهاء المؤتمرات عادت بريتيلاتا وكالبانا إلى كلكتا، حيث كان الثوار يصنعون هياكل القنابل في مصنع سري. وبناءً على تعليمات سوريا سين، حصلت بريتيلاتا على هذه القذائف، وفي عطلة الخريف عادت مع كالبانا وساروجيني بال وناليني بال وكوموديني راكشيت إلى شيتاغونغ، حيث سلّمنها إلى الثوار.

في 18 أبريل/نيسان 1930 قاد سوريا سين الثوار للاستيلاء على مستودع الأسلحة البريطاني في شيتاغونغ. وقد وصف المؤرخ راميش شاندرا ماجومدار هذه العملية بأنها «أجرأ عمل ثوري في تاريخ الهند»، وكانت من أكثر الأحداث إذلالاً للاستعمار البريطاني خلال نحو 150 عاماً من حكمه. وخلال الفترة من 18 إلى 21 أبريل تعطلت الإدارة البريطانية في شيتاغونغ عملياً.

ألهم هذا الانتصار كالبانا دوت إلى حد أنها عندما جاءت إلى شيتاغونغ في عطلة دراسية لم تعد إلى كلكتا، رغم أنها لم تكن قد التقت بعد بسوريا سين.

بعد معركة جلال آباد اعتقلت السلطات البريطانية عدداً من القادة، منهم أنانتا سينغ وغانيش غوش ولوكناث بال، بينما اضطر سوريا سين إلى الاختفاء. وفي أوائل مايو عادت بريتيلاتا وكالبانا من كلكتا إلى شيتاغونغ للمشاركة في الثورة، وتمكنتا بعد مشقة من لقاء سوريا سين، وأعلنتا له رغبتهما في الانضمام المباشر إلى الكفاح المسلح، فأدخلهما في صفوف التنظيم بعد أداء قسم الثورة.

عملت بريتيلاتا بعد ذلك معلمة في مدرسة ناندانكانان للبنات، بينما التحقت كالبانا بكلية شيتاغونغ لدراسة العلوم، واستمرتا في النشاط الثوري سراً إلى جانب الدراسة.

بعد مقتل الكابتن البريطاني كاميرون في معركة دالغات شنت السلطات حملة قمع واسعة في المدينة والقرى. وفي منطقة قريبة من محطة باهارتالي ألقي القبض على كالبانا دوت، لتبدأ أولى سنوات سجنها السياسي.

وبعد الإفراج عنها أُسندت إليها في عام 1931 مهمة تهريب متفجرات شديدة القوة من كلكتا إلى شيتاغونغ. وكانت خطتها استخدام الديناميت لتفجير مبنى المحكمة والسجن من أجل تحرير الثوار المعتقلين.

وفي أبريل/نيسان 1931 بدأت محاكمة 32 ثورياً في قضية الاستيلاء على مستودع الأسلحة. ووضع سوريا سين خطة جريئة لتفجير سور السجن والأفراج عن المعتقلين، وتدمير المحكمة في الوقت نفسه، وكان لكالبانا دور أساسي في تنفيذها. وحدد يوم 3 يونيو/حزيران 1931 موعداً للهجوم، لكن الشرطة اكتشفت آخر لغم قبل تثبيته، فأُحبطت العملية بالكامل.

وفي عام 1932، وبعد انتحار الثائر شايلشوار تشاكرابورتي إثر فشل محاولتين لمهاجمة النادي الأوروبي في باهارتالي، كلّف سوريا سين بريتيلاتا واديدار بتنفيذ العملية.

توجهت بريتيلاتا وكالبانا إلى معسكر سري في جنوب كاتولي، لكن بينما وصلت بريتيلاتا بسلام، اعتُقلت كالبانا، التي كانت ترتدي ملابس الرجال، في 17 سبتمبر/أيلول 1932. وبعد علمه باعتقالها، أصدر سوريا سين أوامره لبريتيلاتا بتنفيذ الهجوم في 23 سبتمبر/أيلول 1932.

وبعد الإفراج عنها بكفالة عادت كالبانا إلى العمل السري. وفي 16 فبراير/شباط 1933 شاركت إلى جانب سوريا سين وتاريكيشوار دستيدار في مواجهة مع القوات البريطانية بقرية غايرالا الساحلية. وتمكن سوريا سين من الفرار في البداية، لكنه اعتُقل لاحقاً مع براجين سين، بينما نجحت كالبانا في الهرب، قبل أن تعتقل مجدداً في 19 مايو/أيار 1933 بعد اشتباك مسلح في القرية نفسها.

بعد أن أمضت نحو ست سنوات في السجن أُفرج عنها عام 1939. وكانت أسرتها قد فقدت منزلها الكبير أثناء إنفاق والدها كل ما يملك على الدفاع عنها في المحاكم.

وعندما خرجت من السجن وجدت أن معظم رفاقها الثوريين انضموا إلى الحزب الشيوعي، فرأت أن طريق الحزب هو الطريق الصحيح لنضال الهند من أجل الاستقلال، فالتحقت به. وخلال مجاعة البنغال عملت في شيتاغونغ ضمن نشاط الحزب، ونُشرت لها تقارير عديدة في صحيفة People's War.

وفي عام 1940 تخرجت من جامعة كلكتا، ثم شاركت ممثلةً لشيتاغونغ في مؤتمر بمدينة بومباي، وهناك تعرّفت إلى بي. سي. جوشي، الأمين العام للحزب الشيوعي الهندي آنذاك، وتزوجته عام 1944.

بعد الزواج عادت إلى شيتاغونغ وأسهمت في تأسيس المنظمات النسائية والفلاحية التابعة للحزب. وفي انتخابات المجلس التشريعي عام 1946 ترشحت عن الحزب الشيوعي، بينما نافستها مرشحة حزب المؤتمر نيلي سينغوبتا.

وبعد تقسيم الهند بقيت في شيتاغونغ فترة من الزمن، ثم عملت عام 1950 في المعهد الإحصائي الهندي، وانتقلت لاحقاً إلى نيودلهي، حيث درّست اللغة الروسية، وترأست المركز الروسي للغة في العاصمة.

كما لعبت دوراً بارزاً في الحركة النسائية الهندية، وأسهمت في تعزيز علاقات الصداقة بين الاتحاد السوفييتي والهند، وشغلت منصب الأمين العام لـ المعهد الهندي للغات الوطنية.

وخلال حرب تحرير بنغلاديش عام 1971 قدمت أشكالاً متعددة من الدعم. وبعد استقلال البلاد، وفي عام 1972، عادت إلى شيتاغونغ بدعوة من الشيخ مجيب الرحمن (بانغاباندو) مع عدد من رفاقها الثوريين، حيث أقيم لهم حفل تكريم في ساحة المدرسة البلدية.

توفيت كالبانا دوت في 8 فبراير/شباط 1995.

المراجع:

  1. شيتاغونغ في حركة الاستقلال، بورنيندو دستيدار.
  2. دور الثوار المسلحين في حركة الاستقلال، سودهانشو داشغوبتا.
  3. في حركة تحرير الجماهير، محفوظة خانم وتابان كومار دي.
  4. الباحثون عن تحرير البنغال، سابياساتشي تشاتوبادياي وراخي تشاتوبادياي.
  5. مائة ثائر، تحرير الشيخ رفيق.

(منشور عن الحزب الشيوعي في بنغلاديش – لجنة منطقة باغيرهات).

ليست هناك تعليقات:

إرسال تعليق

إعلان في أسفل التدوينة

إتصل بنا

نموذج الاتصال

الاسم

بريد إلكتروني *

رسالة *