جاري تحميل ... مدونة نور الدين رياضي للعمل السياسي والنقابي والحقوقي

أخبار عاجلة

إعلان في أعلي التدوينة

تشي غيفارا: حياة ثورية في سبيل حلم تحرر الإنسان


চে গুয়েভারা: মানুষের মুক্তির স্বপ্নে এক বিপ্লবী জীবন ১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর। বলিভিয়ার ছোট্ট গ্রাম লা ইগুয়েরার একটি স্কুলঘরে বন্দী অবস্থায় হত্যা করা হয় ৩৯ বছর বয়সী এক বিপ্লবীকে। যার নাম ছিলো, এরনেস্তো ‘চে’ গুয়েভারা। কিন্তু একটি বিপ্লবীকে হত্যা করা গেলেই কি তার স্বপ্নকে হত্যা করা যায়? চে-কে বুঝতে হলে দেখতে হয়- কেন একজন আর্জেন্টাইন চিকিৎসক নিজের পেশাগত জীবনের নিরাপদ পথ ছেড়ে লাতিন আমেরিকার নিপীড়িত মানুষের মুক্তির সংগ্রামে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন; কেন কিউবার বিপ্লবের বিজয়ের পরও তিনি রাষ্ট্রক্ষমতার নিরাপদ অবস্থানে স্থির থাকেননি; কেন কঙ্গো ও বলিভিয়ায় গিয়েছিলেন; এবং কেন তাঁর কাছে বিপ্লব কেবল একটি দেশের বিষয় ছিল না? ১৯২৮ সালের ১৪ জুন আর্জেন্টিনার রোসারিওতে জন্ম নেওয়া চে গুয়েভারা চিকিৎসাবিদ্যায় শিক্ষিত ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকের শুরুতে মোটরসাইকেলে লাতিন আমেরিকা ভ্রমণের সময় তিনি দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য, শ্রমিক-কৃষকের শোষণ এবং সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করেন। এসব অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলে। ১৯৫৫ সালে মেক্সিকোতে ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর তিনি কাস্ত্রোর ২৬ জুলাই আন্দোলনে যোগ দেন এবং ১৯৫৬ সালে Granma অভিযানের মাধ্যমে কিউবায় প্রবেশ করেন। সিয়েরা মায়েস্ত্রার গেরিলা সংগ্রাম থেকে ১৯৫৮ সালের সান্তা ক্লারার যুদ্ধ; চে ধীরে ধীরে বিপ্লবী বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডারে পরিণত হন। সান্তা ক্লারায় তাঁর নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিজয় বাতিস্তা সরকারের পতনকে ত্বরান্বিত করে। ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি বাতিস্তা কিউবা ছেড়ে পালিয়ে যান। কিউবার বিপ্লব বিজয়ী হওয়ার পর চে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি কিউবার ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এবং পরে শিল্পমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু তাঁর চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শুধু রাষ্ট্রক্ষমতা দখল নয়, একটি নতুন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নির্মাণ। ১৯৬৫ সালে লেখা তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ “Socialism and Man in Cuba”-তে তিনি সমাজতন্ত্রকে কেবল উৎপাদনব্যবস্থার পরিবর্তন হিসেবে দেখেননি; মানুষের চেতনা, সামাজিক দায়িত্ব এবং সমষ্টিগত মূল্যবোধের পরিবর্তনকেও বিপ্লবের অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। তাঁর মতে, নতুন সমাজ নির্মাণের সঙ্গে নতুন মানুষ ও নতুন সামাজিক চেতনার নির্মাণও যুক্ত। এখানেই চে-র রাজনৈতিক চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট হয়; বিপ্লব শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়; বিপ্লব মানুষের সামাজিক সম্পর্ক, মূল্যবোধ ও চেতনাকেও বদলে দেওয়ার সংগ্রাম। আন্তর্জাতিকতাবাদ: একটি দেশের সীমানায় থেমে না থাকা চে-র রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে ছিল আন্তর্জাতিকতাবাদ। ১৯৬৪ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কিউবার প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি। সেখানে তিনি উপনিবেশবাদ, নব্য-উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের পক্ষে অবস্থান নেন এবং জাতীয় মুক্তি ও আন্তর্জাতিক সংহতির প্রশ্নকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করেন। আর ১৯৬৫ সালের Socialism and Man in Cuba-তে তিনি আরও স্পষ্ট করে লিখেছিলেন যে আন্তর্জাতিকতাবাদ তাঁর কাছে শুধু নৈতিক কর্তব্য নয়, বিপ্লবের একটি প্রয়োজনীয়তা। এই আন্তর্জাতিকতাবাদই তাঁকে কিউবার সীমানার বাইরে নিয়ে যায়। ১৯৬৫ সালের পর তিনি কিউবা ছেড়ে আফ্রিকার কঙ্গোতে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। পরে বলিভিয়ায় নতুন গেরিলা সংগ্রাম গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। বলিভিয়ার অভিযান সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে সফল হয়নি; তাঁর গেরিলা বাহিনী বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বলিভিয়ার সেনাবাহিনী তাদের ওপর ক্রমশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৬৭ সালের ৮ অক্টোবর বলিভিয়ার সেনাবাহিনী চে-কে আহত অবস্থায় বন্দী করে। মার্কিন নথিতেও তাঁর ৮ অক্টোবর বন্দী হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ আছে। পরদিন, ৯ অক্টোবর ১৯৬৭, লা ইগুয়েরায় তাঁকে হত্যা করা হয়। একজন বিপ্লবীকে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু তার কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁর মুখ হয়ে ওঠে বিশ্বব্যাপী বিদ্রোহ, সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা এবং বিপ্লবী আন্তর্জাতিকতাবাদের অন্যতম পরিচিত প্রতীক। আলবের্তো কোর্দার তোলা সেই বিখ্যাত মুখচ্ছবি, “Guerrillero Heroico”- পরবর্তীকালে বিশ্বের অসংখ্য প্রতিবাদ, আন্দোলন ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে। তবে চে-কে মিথে পরিণত করলেই তাঁকে বোঝা হবে না৷ চে গুয়েভারাকে নিয়ে ইতিহাসে তীব্র বিতর্কও রয়েছে। কিউবান বিপ্লবের পর বিপ্লবী ট্রাইব্যুনাল ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সঙ্গে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা ও সমালোচনা রয়েছে। তাঁর বিপ্লবী কর্মকাণ্ডকে কেউ মুক্তির সংগ্রামের অংশ হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ তাঁর পদ্ধতি ও সহিংসতার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাই চে-কে বোঝার অর্থ তাঁর প্রতিকৃতি পূজা করা নয়; বরং তাঁর রাজনৈতিক চিন্তা, কর্মকাণ্ড, সাফল্য, ব্যর্থতা এবং বিতর্ক; সবকিছুকে ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বিচার করা। কিন্তু একটি বিষয় অস্বীকার করা কঠিন, চে গুয়েভারা নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে নিজের জীবনকে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি যে সমাজের কথা বলতেন, তার জন্য নিজের নিরাপদ জীবন ত্যাগ করেছিলেন। যে আন্তর্জাতিক সংহতির কথা বলতেন, তার জন্য নিজের দেশের সীমানা অতিক্রম করেছিলেন। যে বিপ্লবের কথা বলতেন, তার ঝুঁকি নিজেও গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর জীবন তাই কেবল একজন ব্যক্তির জীবনী নয়, এটি বিংশ শতাব্দীর বিপ্লব, সমাজতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং আন্তর্জাতিকতাবাদের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। চে-কে হত্যা করা হয়েছিল ৯ অক্টোবর ১৯৬৭-তে। কিন্তু যে প্রশ্নগুলো তিনি রেখে গিয়েছিলেন- শোষণ, বৈষম্য, সাম্রাজ্যবাদ, মুক্তি ও মানুষের মর্যাদার প্রশ্ন, সেগুলোর উত্তর ইতিহাস এখনও খুঁজে চলেছে। কমরেড এরনেস্তো ‘চে’ গুয়েভারার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। বিপ্লবী আন্তর্জাতিকতাবাদ অমর হোক। শোষণমুক্ত সমাজের সংগ্রাম অমর হোক। লাল সালাম, কমরেড চে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বাগেরহাট জেলা কমিটি)

تشي غيفارا: حياة ثورية في سبيل حلم تحرر الإنسان

في 9 أكتوبر 1967، قُتل ثوري يبلغ من العمر 39 عاماً، بعدما كان أسيراً في إحدى غرف المدرسة بقرية لا إيغويرا الصغيرة في بوليفيا. كان اسمه إرنستو «تشي» غيفارا.

لكن هل يمكن قتل حلم ثوري بمجرد قتل صاحبه؟

لفهم تشي، ينبغي أن نتساءل: لماذا تخلى طبيب أرجنتيني عن المسار الآمن لحياته المهنية، وانخرط في النضال من أجل تحرير شعوب أمريكا اللاتينية المضطهدة؟ ولماذا لم يستقر في موقع آمن داخل السلطة بعد انتصار الثورة الكوبية؟ ولماذا ذهب إلى الكونغو ثم بوليفيا؟ ولماذا لم تكن الثورة، بالنسبة إليه، قضية تخص بلداً واحداً فحسب؟

وُلد تشي غيفارا في 14 يونيو 1928 بمدينة روساريو الأرجنتينية، وتلقى تعليمه في الطب. وفي مطلع خمسينيات القرن العشرين، وأثناء رحلاته بالدراجة النارية عبر أمريكا اللاتينية، عاين واقع الفقر والتفاوت الاجتماعي واستغلال العمال والفلاحين والهيمنة الإمبريالية. وكان لهذه التجارب أثر عميق في تطور فكره السياسي.

في عام 1955، التقى في المكسيك فيديل كاسترو. وبعد ذلك انضم إلى حركة 26 يوليو التي قادها كاسترو، ودخل كوبا عام 1956 ضمن حملة اليخت «غرانما».

من حرب العصابات في سييرا مايسترا إلى معركة سانتا كلارا عام 1958، أخذ تشي يتحول تدريجياً إلى أحد أبرز قادة القوات الثورية. وقد أسهم انتصار القوات التي قادها في سانتا كلارا في تسريع سقوط حكومة باتيستا. وفي الأول من يناير 1959، فرّ باتيستا من كوبا.

بعد انتصار الثورة الكوبية، تولى تشي مسؤوليات مهمة في الدولة. فقد شغل منصب رئيس البنك الوطني الكوبي، ثم وزيراً للصناعة. غير أن محور تفكيره لم يكن مجرد الاستيلاء على السلطة، بل بناء نظام اجتماعي واقتصادي جديد.

في مقاله الشهير «الاشتراكية والإنسان في كوبا»، الذي كتبه عام 1965، لم ينظر إلى الاشتراكية باعتبارها مجرد تغيير في نظام الإنتاج؛ بل اعتبر أن تغيير وعي الإنسان ومسؤوليته الاجتماعية وقيمه الجماعية يشكل أيضاً جزءاً لا غنى عنه من الثورة. ورأى أن بناء مجتمع جديد يرتبط ببناء إنسان جديد ووعي اجتماعي جديد.

وهنا تتضح إحدى الركائز المهمة في فكر تشي السياسي: فالثورة ليست مجرد تداول للسلطة، بل هي نضال من أجل تغيير العلاقات الاجتماعية والقيم والوعي الإنساني أيضاً.

الأممية: ألا تتوقف الثورة عند حدود بلد واحد

كانت الأممية في صميم الفلسفة السياسية لتشي.

في 11 ديسمبر 1964، ألقى كلمة أمام الجمعية العامة للأمم المتحدة ممثلاً لكوبا. ودافع فيها عن النضال ضد الاستعمار والاستعمار الجديد والإمبريالية، رابطاً بين التحرر الوطني والتضامن الدولي.

وفي مقاله «الاشتراكية والإنسان في كوبا» عام 1965، أوضح بصورة أكثر صراحة أن الأممية، بالنسبة إليه، ليست مجرد واجب أخلاقي، بل ضرورة من ضرورات الثورة.

وهذه الأممية هي التي دفعته إلى مغادرة حدود كوبا.

بعد عام 1965، غادر كوبا وانخرط في أنشطة ثورية في الكونغو بإفريقيا. ثم حاول إطلاق نضال جديد لحرب العصابات في بوليفيا. غير أن حملته البوليفية لم تحقق النجاح عسكرياً وسياسياً؛ إذ تفككت قواته وانعزلت تدريجياً، بينما أخذ الجيش البوليفي يفرض سيطرته عليها.

في 8 أكتوبر 1967، ألقى الجيش البوليفي القبض على تشي وهو مصاب. وتشير الوثائق الأمريكية أيضاً إلى أسره في ذلك اليوم. وفي اليوم التالي، 9 أكتوبر 1967، أُعدم في لا إيغويرا.

قُتل ثوري، لكن وجهه أصبح، خلال سنوات قليلة، أحد أشهر رموز التمرد العالمي ومناهضة الإمبريالية والأممية الثورية.

وقد تحولت الصورة الشهيرة التي التقطها ألبرتو كوردا، والمعروفة باسم «المقاتل البطولي» (Guerrillero Heroico)، لاحقاً إلى جزء من عدد هائل من الاحتجاجات والحركات والثقافات السياسية في مختلف أنحاء العالم.

لكن تحويل تشي إلى أسطورة لا يعني بالضرورة فهمه. فتاريخه يثير أيضاً نقاشات حادة. إذ توجد روايات تاريخية وانتقادات متعددة بشأن دوره في المحاكمات الثورية وتنفيذ أحكام الإعدام بعد الثورة الكوبية.

فبينما ينظر بعضهم إلى نشاطه الثوري باعتباره جزءاً من نضال التحرر، ينتقد آخرون بشدة أساليبه وما ارتبط بها من عنف. لذلك، فإن فهم تشي لا يعني عبادة صورته، بل يقتضي دراسة أفكاره السياسية وممارساته ونجاحاته وإخفاقاته والجدل الدائر حوله، جميعها في سياقها التاريخي.

لكن يصعب إنكار أمر واحد: لقد حاول تشي غيفارا أن يجعل حياته منسجمة مع معتقداته.

فقد تخلى عن حياته الآمنة من أجل المجتمع الذي كان يتحدث عنه. وتجاوز حدود بلده دفاعاً عن التضامن الأممي الذي كان يدعو إليه. كما تحمل بنفسه مخاطر الثورة التي كان ينادي بها.

ولذلك، فإن حياته ليست مجرد سيرة فرد، بل هي فصل مهم من تاريخ ثورات القرن العشرين والاشتراكية والنضال ضد الإمبريالية والأممية.

قُتل تشي غيفارا في 9 أكتوبر 1967.

لكن الأسئلة التي تركها وراءه، والمتعلقة بالاستغلال والتفاوت والإمبريالية والتحرر وكرامة الإنسان، لا يزال التاريخ يبحث عن إجابات لها.

تحية إجلال وإكبار لذكرى الرفيق إرنستو «تشي» غيفارا.

لتخلد الأممية الثورية!

ليخلد النضال من أجل مجتمع خالٍ من الاستغلال!

تحية حمراء، أيها الرفيق تشي!

الحزب الشيوعي البنغلاديشي

اللجنة الإقليمية لمنطقة باغيرهـات.

ليست هناك تعليقات:

إرسال تعليق

إعلان في أسفل التدوينة

إتصل بنا

نموذج الاتصال

الاسم

بريد إلكتروني *

رسالة *